মন্টু দত্ত আজ নতুন ভাবে নিজেকে খুঁজে পেয়েছে। পুরোনো গদ বাধা জীবন থেকে নিজেকে বেড় করে এনে আবার উৎফুল্ল ভরা বিকেলে সেলাই এর মেছিইনে হাত চালাচ্ছে। সে আজ আর ৪৮ বছরের মধ্যবয়সী ব্যবসায়ী নয়। যেন সেই পুরোনো মন্টু যে এক সময় অনেক ঝুঁকি নিয়ে নতুন নতুন কাজ করতো।
মহামারীর জন্যে লকডাউন চলছে এখন প্রায় মাস ছুঁই ছুঁই। কবে লকডাউন খুলবে, কবে শহর আবার নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে কোনো ভরসা নেই। মন্টুর হরিগঙ্গা বসাক রোড এর হকার্স কর্নারের পেছন দিকে ছোট্ট একটা দোকান। আজ প্রায় ১৫ বৎসর ধরে সে দোকান টা চালাচ্ছে। সে বিভিন্ন রকমারি ঠাকুরের /পুজার বিগ্রহের জামা কাপড়, অলংকার, সাজ সজ্জার সামগ্রী রাখে তার দোকানে। প্রত্যেক বছর কিছু কিছু নতুন সামগ্রী যোগ করে ক্রেতাদের ধরে রাখার জন্যে। কিন্তু পোষাক সেই একই ধরণের চলে আসছে , জেরোম গোপাল বিগ্রহেরএর জামা, নারায়ণ শীলার রুমাল ইত্যাদি। এখন তো লোকে ছবির ঠাকুরের জামা ও কেনে। প্রিন্টেড সিনথেটিক কাপড়ের তৈরি সবকিছু। দুর্গা পূজা, লক্ষী পূজা, নববর্ষ, অক্ষয় তৃতীয়া , মনসা পূজা, বিশ্বকর্মা পূজা এগুলো হলো তার দোকান এ বিক্রির মূল সময় । চৈত্র মাস আর অশ্বিন মাসে তার বছরের সেরা বিক্রি হয় । পুরো বছরের মুনাফা তার এই দুই মাসেই । বাকি সময় নমঃ নমঃ করে চলে যায় । এমনিতেও এটা তো ছোট দরের ব্যবসা । আগে তবুও দোকান কম ছিল। কিন্তু এখন দোকানের সংখ্যা বেড়েছে। প্রতিযোগিতা বেড়েছে। মন্টুর ও তো সংসার বড় হয়েছে। তার মেয়ে এখন ক্লাস ফাইভে পড়ে । তাদের তিন জনের সংসার স্বচ্ছল ভাবে চলে যায় ।
কিন্তু এবার চৈত্রের শুরু থেকেই থমথমে ভাব। বিক্রি নেই । ইংরেজি বছরের শুরুতেই খবর পাওয়া গেল এক নতুন রোগের জীবাণুর। সে তখন ছিল সুদূর চাইনাতে। এখন সে আস্তে আস্তে ভারতে প্রবেশ করেছে। চৈত্রের মাঝ থেকে তো লোকডাউন ই শুরু হয়ে গ্যালো। দোকান এ তালা লাগিয়ে আসার সময় তবুও মনে আশা ছিল যে খুব শিগগিরই সব ঠিক হয়ে যাবে। মাল ও তুলে নিয়েছিল চৈত্রসংক্রান্তি আর অক্ষয় তৃতীয়ার উপলক্ষে। কিন্তু এখন পেটিতে পেটিতে মাল অর্ধেক দোকানে আর বাকি অর্ধেক বাড়ির রান্না ঘরের পেছনে গড়ে তোলা ছোট্ট স্টোররুম জিরোচ্ছে। প্রথম কয়েকদিন খেয়ে ঘুমিয়ে বেশ কেটেছে। দেখতে দেখতে নব বর্ষ চলে গেল । এবার বছরের শুরুতে নতুন খাতাই খোলা হলো না। অথছ কিছুদিন পরে পাওনাদারের তারা শুরু হবে,তা ভেবেই দুঃশ্চিন্তা শুরু হয়েছে । খাওয়া দাওয়ার তেমন অভাব হচ্ছে না। রেশন থেকে চাল, ডাল , আলু, সর্ষের তেল, চা পাতা সব পর্যাপ্ত পরিমানে দিয়েছে। ত্রাণ তহবিল থেকেও গিন্নি আরো অনেক তুলে এনেছে। কিন্তু ব্যবসার হল কি ভাবে সামলাবে এই তার চিন্তা। খুকির পড়াশোনা ঘরের থেকেই চলছে।
মহামারীর জন্যে লকডাউন চলছে এখন প্রায় মাস ছুঁই ছুঁই। কবে লকডাউন খুলবে, কবে শহর আবার নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে কোনো ভরসা নেই। মন্টুর হরিগঙ্গা বসাক রোড এর হকার্স কর্নারের পেছন দিকে ছোট্ট একটা দোকান। আজ প্রায় ১৫ বৎসর ধরে সে দোকান টা চালাচ্ছে। সে বিভিন্ন রকমারি ঠাকুরের /পুজার বিগ্রহের জামা কাপড়, অলংকার, সাজ সজ্জার সামগ্রী রাখে তার দোকানে। প্রত্যেক বছর কিছু কিছু নতুন সামগ্রী যোগ করে ক্রেতাদের ধরে রাখার জন্যে। কিন্তু পোষাক সেই একই ধরণের চলে আসছে , জেরোম গোপাল বিগ্রহেরএর জামা, নারায়ণ শীলার রুমাল ইত্যাদি। এখন তো লোকে ছবির ঠাকুরের জামা ও কেনে। প্রিন্টেড সিনথেটিক কাপড়ের তৈরি সবকিছু। দুর্গা পূজা, লক্ষী পূজা, নববর্ষ, অক্ষয় তৃতীয়া , মনসা পূজা, বিশ্বকর্মা পূজা এগুলো হলো তার দোকান এ বিক্রির মূল সময় । চৈত্র মাস আর অশ্বিন মাসে তার বছরের সেরা বিক্রি হয় । পুরো বছরের মুনাফা তার এই দুই মাসেই । বাকি সময় নমঃ নমঃ করে চলে যায় । এমনিতেও এটা তো ছোট দরের ব্যবসা । আগে তবুও দোকান কম ছিল। কিন্তু এখন দোকানের সংখ্যা বেড়েছে। প্রতিযোগিতা বেড়েছে। মন্টুর ও তো সংসার বড় হয়েছে। তার মেয়ে এখন ক্লাস ফাইভে পড়ে । তাদের তিন জনের সংসার স্বচ্ছল ভাবে চলে যায় ।
কিন্তু এবার চৈত্রের শুরু থেকেই থমথমে ভাব। বিক্রি নেই । ইংরেজি বছরের শুরুতেই খবর পাওয়া গেল এক নতুন রোগের জীবাণুর। সে তখন ছিল সুদূর চাইনাতে। এখন সে আস্তে আস্তে ভারতে প্রবেশ করেছে। চৈত্রের মাঝ থেকে তো লোকডাউন ই শুরু হয়ে গ্যালো। দোকান এ তালা লাগিয়ে আসার সময় তবুও মনে আশা ছিল যে খুব শিগগিরই সব ঠিক হয়ে যাবে। মাল ও তুলে নিয়েছিল চৈত্রসংক্রান্তি আর অক্ষয় তৃতীয়ার উপলক্ষে। কিন্তু এখন পেটিতে পেটিতে মাল অর্ধেক দোকানে আর বাকি অর্ধেক বাড়ির রান্না ঘরের পেছনে গড়ে তোলা ছোট্ট স্টোররুম জিরোচ্ছে। প্রথম কয়েকদিন খেয়ে ঘুমিয়ে বেশ কেটেছে। দেখতে দেখতে নব বর্ষ চলে গেল । এবার বছরের শুরুতে নতুন খাতাই খোলা হলো না। অথছ কিছুদিন পরে পাওনাদারের তারা শুরু হবে,তা ভেবেই দুঃশ্চিন্তা শুরু হয়েছে । খাওয়া দাওয়ার তেমন অভাব হচ্ছে না। রেশন থেকে চাল, ডাল , আলু, সর্ষের তেল, চা পাতা সব পর্যাপ্ত পরিমানে দিয়েছে। ত্রাণ তহবিল থেকেও গিন্নি আরো অনেক তুলে এনেছে। কিন্তু ব্যবসার হল কি ভাবে সামলাবে এই তার চিন্তা। খুকির পড়াশোনা ঘরের থেকেই চলছে।
খুকি দুদিন আগে বায়না ধরেছে তার পুতুল কে নতুন জামা বানিয়ে দিতে। স্ত্রী ললিতা টুক টাক শাড়ির ফলস, পিকো করে বটে, কিন্তু তার বেশি কিছু পারে না। অনেকবার মন্টু কে বলেছে সেলাই শেখাতে। কিন্তু সে আর সময় করে উঠতে পারে নি । ব্যবসার শুরুর দিকে মুনাফা করবার জন্যে মন্টু নিজেই ছোট ছোট জামা সেলাই করতো। তখন সুতির কাপড়ের জামা পড়ানোর চল ছিল। চিনের সিনথেটিক তখনও বাজার কব্জা করে নি। আসলে এই দোকান টা দেওয়ার আগে সে দু বছরের মতো একটা টেইলরের দোকানে কাজ শিখেছে আর ওখানেই কাজকরেছে। পাশাপাশি টুকটাক অটো চালাতো। অটো চালনতে উপার্জন ভালো হলেও ইউনিয়নের এর লোকেদের উপদ্রপ বেশ প্রবল। সে বরাবরই নির্ভেজাল প্রকৃতির। তাই নিজের জমানো টাকা কে পুঁজি করে এই কাপড়ের ব্যবসাকেই বেঁচে নিয়েছিল।তারপর আসতে আসতে দোকান ও বড় হলো। কখন যে দেশি সুতি বিলুপ্ত হয়ে গেল সে নিজেই জানে না।
তা খুকির বায়না উপেক্ষা করতে না পেরে সে বহু বছর পরে আজ সেলাই করতে বসলো। কিছু নতুন কাপড়ের পিস ঘরে রাখা ছিল খুকির জামার জন্যে। তার থেকেই একটা হলুদ রঙের সুতির কাপড় দিয়ে বেশ সুন্দর তৈরি করলো সে পোশাক। প্রথমে শুতো কেটে যাচ্ছিল, পা আর হাত একসাথে ছন্দ পাচ্ছিল না । কিন্তু একটু পরেই সব আগের মতন হয়ে গ্যালো। এত বছর যে সে সেলাই করে নি , সে পুতুলের জামাটা দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না। খুকির চোখে মুখে আনন্দ আর ধরছে না আজ।
খুকি আনন্দে আটখানা হয়ে বলেই ফেললো, বাবা তুমিই তো ঠাকুরের নতুন নতুন পোশাক বানিয়ে দোকানে রাখতে পারো...একেবারে সকলের থেকে আলাদা। মন্টুর কথাটা বেশ মনে ধরলো। এমনিতেও কথা চলছে চারিদিকে যে এবার এই মহামারী থেকে সেরে উঠতে পারলে চীনের সামগ্রী কে বয়কট করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বার বার আত্মনির্ভরশীল হতে । সে যদি সুতির কাপড় দিয়ে সুন্দর সুন্দর পোশাক বানিয়ে দোকানে রাখে, তাহলে বেশ হবে। তাহেল কিছু মাল বাক্স সহ ফেরত ও দিয়ে দেওয়া যাবে। এক নিমেষে ঘাড়ের থেকে অনেক বড় একটা বোঝা হালকা হয়ে গেল। দুপুরের খাবার পরে আজ দুদিন ধরে সে আর জিরোয় না। একের পর এক খুকির সব পরে থেকে জামর কাপড় খুঁজে খুঁজে নতুন নতুন নকশা করে বিভিন্ন বিগ্রহের জামা সে বানিয়ে চলেছে। এই কাজের মধ্যেই সে নিজের পুরোনো পছন্দের পেশা কেও খুঁজে পেয়েছে আজ। লোকডাউন এর পরে দোকানে শুরু হবে, স্বগৃহে তৈরি সুতির জামা। ললিতা কে ও এবার শিখিয়ে দেবে সেলাই করা। লোকডাউন যেন তার জীবনে এক নতুন ছন্দ এনে দিয়েছে। আজ নিজেকে নতুন করে আত্মনির্ভরশীল মনে হচ্ছে। নতুন স্বপ্ন, নতুন ডানা পেয়ে সে যেন সম্ভাবনার আকাশে ডানা মেলে দিয়েছে আজ।
P.S: পাঠক পাঠিকাদের কাছে অনভ্যাশ বশতঃ বানান ভুল থাকলে তা অনুগ্রহ করে উপেক্ষা করার জন্যে অনুরোধ রইলো। আমি অগ্রিম ক্ষমাপ্রার্থী।
No comments:
Post a Comment